২০২৫-২৬ মৌসুম

ভারতে চিনি উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা

ভারতের চিনি উৎপাদন ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে (অক্টোবর থেকে শুরু) ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ভারতের চিনি উৎপাদন ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে (অক্টোবর থেকে শুরু) ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে অনুকূল মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও আখ চাষের আবাদযোগ্য অঞ্চল বৃদ্ধি উৎপাদন বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখবে। চলতি বছরের তুলনায় আগামী মৌসুমে চিনি উৎপাদন প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) দিল্লি কার্যালয় জানায়, ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে ভারত মোট চিনি উৎপাদন (প্রক্রিয়াজাত হওয়ার আগে) করতে পারে ৩ কোটি ৫০ লাখ টন। এটি চলতি বছরের সংশোধিত ২ কোটি ৮০ লাখ টনের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের উৎপাদন এল নিনোর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২৩-২৪ মৌসুমে পর্যাপ্ত ভূগর্ভস্থ পানির অভাব ছিল।

ইউএসডিএর পূর্বাভাস থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ৬০ হাজার টন খণ্ডসারিসহ (ভারতের ঐতিহ্যবাহী এক ধরনের আংশিক প্রক্রিয়াজাত চিনি) এতে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টন স্ফটিক (পরিশোধিত) চিনি থাকবে।

ভারতে আগামী মৌসুমে চিনি উৎপাদন বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখবে ২০২৪ সালের বর্ষা মৌসুমের ইতিবাচক প্রভাব, যা মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও উত্তর প্রদেশের মতো মূল আখ উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোর ভূগর্ভস্থ পানি ও জলাধার পুনরায় পূর্ণ করেছে।

গত বছরের স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাতের কারণে মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে আখের আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বেড়েছে। ইউএসডিএ আশা করছে, এর ফলে আগামী মৌসুমে ফলন ও চিনি উৎপাদন বাড়বে।

ভারতে আখ একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল, যার পরিপক্বতা পেতে ১২-১৪ মাস সময় লাগে। এর আগে গত দুই বছরের খরার ও পোকার আক্রমণে দেশটিতে আখ চাষ উল্লেখযোগ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সে সময় দেশটির কৃষকরা কৃষিপণ্যটি চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল।

ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আখের আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৯ শতাংশ বেড়ে ৫৮ লাখ ৫০ হাজার হেক্টরে পৌঁছতে পারে, যা গত বছরের ৫৩ লাখ ৬০ হাজার হেক্টরের তুলনায় বেশি।

ভারতে চলতি বছরের তুলনায় মোট আখ উৎপাদন ৭ শতাংশ বেড়ে ৪৬ কোটি ৫০ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। এটি গত বছরের ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টনের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৩৭ কোটি টন আখ চিনি উৎপাদনে ব্যবহার হবে।

আখ পানিনির্ভর ফসল হওয়ায় ইউএসডিএ আশা করছে, ভূগর্ভস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি আখ থেকে চিনি উৎপাদন হার ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে নিয়ে যাবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘আখে চিনি পুনরুদ্ধারের হার বর্তমান মৌসুমের তুলনায় ১৯ শতাংশ বাড়তে পারে। ৭ শতাংশ আখ উৎপাদন বৃদ্ধি ও ৮ শতাংশ বেশি চিনি ব্যবহারকে ভিত্তি ধরে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।’

ন্যাশনাল ফেডারেশন অব কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকাশ নাইকনাওয়ারে জানান, ২০২৫-২৬ বিপণন মৌসুমে আখ ও চিনি উৎপাদন প্রায় ২০-২৫ শতাংশ বাড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘কৃষকরা আখের আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বাড়িয়েছে। এছাড়া গত বছরের বৃষ্টিপাতের ফলে জলাধারও পূর্ণ হয়েছে।’

আরও